নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ২২ বার পঠিত
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে এবং তাদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার ( ২ সেপ্টেম্বর ) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আয়োজিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে বাংলাদেশের ১ কোটি ৫০ লাখের বেশি কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে তিনি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে জাতীয় সংসদে সরকারের গৃহীত নানা দূরদর্শী পদক্ষেপ ও কল্যাণমূলক ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
প্রবাসীদের কল্যাণে গৃহীত বৈশ্বিক পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরামর্শ, আইনি সহায়তা এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে বিশ্বজুড়ে ২৭টি দেশে থাকা বাংলাদেশ মিশনসমূহে বর্তমানে ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইং নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশের মাটিতে দেশি কর্মীদের আইনি সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার লক্ষে ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১১টি মিশনের শ্রম কল্যাণ উইংয়ে পেশাদার ল’ ফার্ম কিংবা প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী নারী কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মস্থলে বিপদে পড়া নারী কর্মীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদে উদ্ধার করা, দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের জরুরি আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে বিশেষ ‘সেইফ হোম’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি প্রবাসী কর্মীদের সমস্যা সমাধানের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ভ্রমণের নথিপত্র বা পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি হলে কর্মীদের সহজে দেশে ফেরার সুবিধার জন্য বিশেষ আউট পাসের ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। বিদেশের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টার বা কারাগারে বন্দি প্রবাসী কর্মীদের দ্রুত মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মস্থলে নিয়োগকর্তার সঙ্গে দেখা দেওয়া নানা অসন্তোষ ও জটিলতা নিরসনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। প্রবাসে কোনো কর্মীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হলে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ও নিজস্ব অর্থায়নে তার মরদেহ নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করা হচ্ছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দরুন ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের যেভাবে নিরাপদে ও সশরীরে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, সেটি বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলতার এক অনন্য উদাহরণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের অভ্যন্তরে প্রবাসীদের জন্য নেওয়া আধুনিক সেবাসমূহের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিশেষ ডেস্কের মাধ্যমে মৃত প্রবাসী কর্মীর মরদেহ পরিবারের হাতে দ্রুত হস্তান্তর করা হচ্ছে এবং পরিবহন ও দাফনের তাৎক্ষণিক খরচ মেটাতে পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হচ্ছে। একই সাথে বিমানবন্দর হতে অসুস্থ কিংবা মৃত কর্মীকে দ্রুত বাড়ি পৌঁছে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে ২ টি ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সসহ মোট ৪ টি অ্যাম্বুলেন্স সংযুক্ত করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় আগমন ও বহির্গমন যাত্রীদের ইমিগ্রেশন সুবিধা, লাগেজ র্যাপিং, প্রবাসী ক্যাফেতে ৩০ শতাংশ ছাড়ের বিশেষ খাবার সুবিধা এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ওয়াইফাই ও টেলিফোন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই ‘ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে’ যেকোনো প্রবাসী যাত্রী মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে চমৎকার আবাসন, সাশ্রয়ী খাবার এবং যাতায়াতের সুব্যবস্থা উপভোগ করছেন।
প্রবাসে কর্মরত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ভবিষ্যতের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া সামাজিক নিরাপত্তার দিকগুলো উন্মোচন করে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে মাত্র ১ হাজার টাকা প্রিমিয়ামের মাধ্যমে ৫ বছর মেয়াদি ১০ লাখ টাকার সার্বিক মৃত্যুজনিত বিমা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত কোনো কর্মী প্রবাসে মারা গেলে তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৩ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করা হচ্ছে এবং মারাত্মক আহত ও অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরত আসা প্রবাসীদের চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ১ লাখ টাকা থেকে উন্নীত করে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকায় পৌঁছানো হয়েছে। প্রবাসী পরিবারের মেধাবী সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে শিক্ষা বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের মাসিক সহায়তা ভাতা ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে অবস্থানকালে প্রবাসীদের নিজস্ব সম্পদ ও সম্পত্তি রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে প্রতিটি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট হেল্প ডেস্ক’ অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রবাসফেরত ২ লাখ ৫৩ হাজার কর্মীর আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই পুনর্বাসনের জন্য ‘রেইস’ প্রকল্পের আওতায় বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে এবং প্রবাসীরা যে কোনো জরুরি মুহূর্তে ২৪ ঘণ্টা টোল ফ্রি প্রবাসী কল সেন্টারের সাহায্য নিতে পারছেন।
Posted ০৮:২৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com